এমপিওভুক্ত কলেজের অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকরা ননএমপিও!

769

এমপিওভুক্ত কলেজের অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকরা ননএমপিও!

মাউশি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যায়ের সমন্বয়হীনতা

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের অনার্স মাস্টার্স কের্সের ৩৫০টি বেসরকারি কলেজের শিক্ষকেরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। দীর্ঘ ২৮ বছরেও জনবলকাঠামো তৈরি না করায় শুধু অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সের শিক্ষক-কর্মচারীরা এমপিও সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই প্রতিষ্ঠানের একাদশ, দ্বাদশ ও সাধারণ ডিগ্রি ক্লাসে যারা পাঠদান করাচ্ছেন তারা এমপিওভুক্ত, সরকারি বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ফলে একই প্রতিষ্ঠানে সরকারি সুবিধা পাওয়া ও না পাওয়ার কারণে বৈষম্যও সৃষ্টি হচ্ছে।

                ⭕   🌴 ☘️  ☘️ ☘️ 🌴⭕

📍📍শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হৃদয়ের স্পন্দন…প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় সহ শিক্ষা বিষয়ক সব ধরণের নির্ভরযোগ্য খবরাখবর সবার আগে পেতে ক্লিক করুন নিচে…  

 ☘️দৈনিক শিক্ষা সংবাদ পেইজে 👍লাইক দিন 

👉 জয়েন্ট করুন 🌿 শিক্ষা গ্রুপ✅

               🌿  🌴 🌿    🔴 🔴 🌿   🌴

অনার্স মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে সারা দেশে এমন কলেজের সংখ্যা আট শতাধিক। এর মধ্যে ৩৫০টি কলেজই বেসরকারি, যেখানে শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ৫ হাজার। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের জনবলকাঠামো অনুযায়ী অনার্স মাস্টার্স স্তরে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়নি। অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবিধানে এই সুযোগ রয়েছে। এই সুযোগে ৮ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনার্স মাস্টার্স কোর্স চালু করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিধি মোতাবেক অনার্স মাস্টার্স কোর্সের পাঠদানের অনুমতি দেয়, শিক্ষক নিয়োগ দেয়। বিধি অনুযায়ী অনার্স কোর্সের জন্য কলেজে সাত জন এবং মাস্টার্স কোর্সের জন্য ১২ জন শিক্ষক নিয়োগের বিধি রয়েছে। নিয়োগ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এই শিক্ষকদের বেতন-ভাতার দায়িত্ব গ্রহণ করে না।

এমতাবস্থায় অধিকাংশ কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসিক নামমাত্র কিছু টাকা সম্মানী হিসেবে দিয়ে থাকে, যা দিয়ে মাসের এক সপ্তাহের ন্যূনতম বাজার খরচ চলে না। সেই সম্মানীটাও অনেক কলেজ বন্ধ করে দিয়েছে। করোনার কারণে শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি দিচ্ছে না—এই কারণ দেখিয়ে বেতন-ভাতা বন্ধ রেখেছে অধিকাংশ কলেজ। অনার্স মাস্টার্স কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি নেকবর হোসাইন বলেন, “পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকাকালীন শিক্ষকেরা সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানোর জন্য কেউ কেউ প্রাইভেট টিউশনি ও ব্যবসা-বাণিজ্য করে কোনো রকমে সংসার চালাতেন, যেটাকে বলা যায় ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’ অবস্থা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর চলতে পারছেন না। কারো কাছে সাহায্য চাওয়া তো দূরের কথা, সাহায্যের কথা মনে আসতেই লজ্জায় মাথা হেট হয়ে যায়। কারণ আমরা তো শিক্ষক, আত্মসম্মানবোধটুকু ছাড়া আমাদের তো আর কিছুই নেই। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের প্রণোদনা তহবিল থেকে আমাদের মাসিক সাহায্য একান্ত প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, অনার্স মাস্টার্স কোর্স চালুর বিষয়ে মন্ত্রণালয়কেও কোনো সহযোগিতা করেনি তারা।

শিক্ষকদের বক্তব্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজার কোটি টাকা অলস পড়ে আছে। সেই টাকা সরকারের বা জনকল্যাণের কাজে লাগছে না। সেখান থেকে এই শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দেওয়া হলে মাসে মাত্র ১১ থেকে ১২ কোটি টাকা খরচ হবে। ছাত্র বেতন কেন্দ্রীয়ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে জমার ব্যবস্থা করা হলে মাসে ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডে জমা হবে, যা বছরে উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৬৮ থেকে ২১৬ কোটি টাকার বেশি। শুধু সঠিক নীতিমালা না থাকার কারণে এবং উপাচার্য মহোদয়ের বিমাতাসুলভ আচরণের কারণে এই টাকা সরকার অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে জমা হয় না, যার কারণে সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক-কর্মচারী ছাত্রছাত্রী সবাই বঞ্চিত হচ্ছেন।

এসব বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে দায়ী করেছেন শিক্ষকেরা। উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে সংবাদ সম্মেলনও হয়েছে। শিক্ষকদের বক্তব্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। তবে এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগের অনুমোদন দেয়। বেতন-ভাতা দেওয়ার দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির। বেতন-ভাতার বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের করণীয় কিছু নেই। তবে মন্ত্রণালয়ে নতুন জনবলকাঠামো তৈরির কাজ চলছে। কমিটিও হয়েছে। এই কমিটিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিও রয়েছেন। আমরা অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির বিষয়ে সেখানে সুপারিশ করব।’

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Facebook Comments