এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার  ফল প্রকাশে অনিশ্চয়তা

800

♦এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার  ফল প্রকাশে অনিশ্চয়তা

♣ওএমআর শিট স্ক্যানিং স্থগিত করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড

♦মূল্যায়নকৃত খাতা নিয়ে বোর্ডে আসতে          পরীক্ষকদের নিষেধও করা হয়েছে

এসএসসি, দাখিল  ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ৩ ফেব্রুয়ারি। গত ২৭ ফেব্রয়ারি শেষ হয়েছে লিখিত পরীক্ষা। গত ১ মার্চ দাখিলের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে।২৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চ এসএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। ২৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চের মধ্যে এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনালের ব্যবহারিক পরীক্ষা নেয়া হয়েছে।

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে ইতোমধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে দেশের সকল প্রকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে আসন্ন উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষা নিয়েও।

এমন উৎকণ্ঠার মধ্যেই সদ্যসমাপ্ত মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার উত্তরপত্রের ওএমআর শিট স্ক্যানিং স্থগিত করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। ফলে যথাসময়ে এ পরীক্ষার ফল প্রকাশে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

গত বুধবার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর মু. জিয়াউল হক স্বাক্ষরিত এক নোটিসের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। সেখানে মূল্যায়নকৃত খাতা নিয়ে বোর্ডে আসতে পরীক্ষকদের নিষেধও করা হয়েছে।

জানা গেছে, শুধু ঢাকা বোর্ড নয়, দেশের অন্যান্য বোর্ডও এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।তবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, আতঙ্ক কেটে গেলে ডাবল শিফটে কাজ করে এই গ্যাপ পূরণ করে নেয়া হবে।ফলে যথাসময়ে ফল প্রকাশ করতে তেমন কোনো অসুবিধা হবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে এই আশঙ্কায় দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করতে বিভিন্ন মহল থেকে আবেদন ওঠে।বিশ্ববিদ্যালয়পর্যায়ে ক্লাস বর্জনের ঘটনাও ঘটে। শেষ পর্যন্ত গত ১৬ মার্চ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেয় সরকার।

নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ধাকবে।

করোনা ভাইরাস আতঙ্কেই এসএসসি পরীক্ষার ওএমআর শিট স্ক্যানিং কার্যক্রম স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সাথে মূল্যায়নকৃত খাতা নিয়ে বোর্ডে আসতেও পরীক্ষকদের নিষেধ করা হয়েছে।

চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ২০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৯৯ জন পরীক্ষার্থী।

মোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ বছর ১৬ লাখ ৩৫ হাজার ২৪০ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি, দুই লাখ ৮১ হাজার ২৫৪ জন পরীক্ষার্থী দাখিল এবং এক লাখ ৩১ হাজার ২৮৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে।

গত বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিলো ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৩ জন।নিয়মমতো পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিন বা দুই মাসের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হয়ে থাকে। সেই হিসাবে এপ্রিলের ২৫ থেকে ৩০ তারিখের মধ্যেই সাধারণত এসএসসির রেজাল্ট প্রকাশ হয়।

এদিকে, ওএমআর শিট স্ক্যানিং কার্যক্রম স্থগিত করলেও বোর্ড কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানা গেছে। ঢাকা বোর্ডের একটি সূত্র বলছে, পরীক্ষা শেষের পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে ফল প্রকাশের একটা রীতি আমাদের রয়েছে।

এ অবস্থায় প্রায় ১৫ দিন ওএমআর শিট স্ক্যানিং কার্যক্রম স্থগিত সত্যিকার অর্থেই যথাসময়ে ফল প্রকাশের অন্তরায় হবে। কিন্তু আমাদের প্ল্যান রয়েছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ডাবল শিফটে কাজ করে এ ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া হবে।

এসএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়নের সাথে জড়িত শিক্ষকরাও এ অবস্থায় যথাসময়ে ফল প্রকাশের বিষয়ে অনিশ্চয়তা দেখছেন। তারা বলছেন, ১৫ দিনের গ্যাপ অনেক বড় কিছু। ফলে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা ছাড়া সময়মতো ফল দিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকার একটি স্কুলের একজন শিক্ষক বলেন, আমরা গত কয়েক বছর ধরেই পরীক্ষা শেষের ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করে আসছি। কিন্তু এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় শিক্ষকরাও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। আর উৎকণ্ঠা থেকেই উত্তরপত্রের ওএমআর শিট স্ক্যানিংও স্থগিত করা হয়েছে। তাই যথাসময়ে ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে কিছুটা অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এখন সংশ্লিষ্টজনদের আন্তরিকতা এবং বেশি কাজ করার মানসিকতা থাকলেই যথাসময়ে ফল প্রকাশ করা সম্ভব।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর মু. জিয়াউল হক বিষয়টি সম্পর্কে বলেন, আমরা সাময়িকভাবে এসএসসির উত্তরপত্রের ওএমআর শিট স্ক্যানিং স্থগিত করলেও করোনা আতঙ্ক কেটে গেলে ডাবল শিফটে কাজ করে গ্যাপ পূরণ করে নেব। তাই আমরা আশা করছি, ফল প্রকাশে কোনো বিলম্ব হবে না।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Facebook Comments