করোনায় আর্থিক মহাসংকটে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

625

করোনায় আর্থিক মহাসংকটে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

♦অর্ধেক বেতন-ফি নেওয়ার দাবি অভিভাবকদের

♦বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের দাবি

♦প্রণোদনা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি

নিজস্ব সংবাদদাতা : প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় গত ১৭ মার্চ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হয়েছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুসারে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে মার্চ, এপ্রিল এবং মে মাসের বেতন চেয়ে অভিভাবকদের কাছে এসএমএস পাঠিয়েছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। একই চাপ দিচ্ছে ইংরেজি মাধ্যম ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। অভিভাবকরা বলছেন, সংকটের এই মুহূর্তে অভিভাবকদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্কুলের টিউশন ফি। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানগুলো বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের কাছে অনুদান এবং প্রণোদনা চেয়েছে বিভিন্ন মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান এবং সংগঠনগুলো। সম্পূর্ণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এ নিয়ে কোনো চাপ দিতে না পারায় উভয় সংকটে পড়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

——————————————————————-

📌📌শিক্ষা সম্পর্কিত খবরাখবর জানতে এখানে ক্লিক করে শিক্ষা গ্রুপে ঢুকে JOIN GROUP এ  ক্লিক করুন।গ্রুপে আপনিও শেয়ার করুন…

——————————————————————-

👉👉দৈনন্দিন শিক্ষা সম্পর্কিত খবরাখবর পেতে এখানে ক্লিক করে দৈনিক শিক্ষা সংবাদ পেইজে ঢুকে ” LIKE PAGE ” 👍 এ লাইক দিন

——————————————————————-

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ বলছে, শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি দিয়েই মূলত এসব প্রতিষ্ঠান চলে। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন, ভবন ভাড়াসহ আনুষঙ্গিক সব খরচ একমাত্র খাত টিউশন ফি। সামনে ঈদ, মে মাসের বেতনের সঙ্গে ঈদ বোনাসও দিতে হবে। এ অবস্থায় টিউশন ফি আদায় না করতে পারলে চলতি মাসের বেতন, ঈদ বোনাস দেওয়া সম্ভব হবে না। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এ সংকট মুহূর্তে তহবিল গঠনের দাবি জানিয়েছেন সরকারের শরিক দলগুলো। একই দাবি জানিয়েছে অভিভাবকরা এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।

এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চবিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, বিশেষ দুর্যোগে সবাইকে সহনশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। যতটুকু টিউশন ফি আদায় হলে শিক্ষক-কর্মচারীরাও বাঁচবে, ততটুকু যেন আদায় করা হয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি এমন পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, যেহেতু বেসরকারি উদ্যোগে এসব প্রতিষ্ঠান চলে তাই আমরা চাইলে তাদের চাপ দিতে পারি না।

এ ব্যাপারে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিভাবকদের নানাভাবে চাপ দিচ্ছে। বেতন না দিলে বাচ্চাকে স্কুল থেকে বের করে দিবে এমন হুমকি দিচ্ছে। এ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিষ্কার বক্তব্য জানতে চান তিনি।

এদিকে করোনাভাইরাসের সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের সব ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ৫০ শতাংশ টিউশন ফি মওকুফের জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা। অভিভাবক ফোরামের সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর ফারুক বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সারাদেশে লকডাউন পরিস্থতিতে সব কিছু অচল হয়ে পড়েছে। সব ধরনের কর্মসংস্থান বন্ধ রয়েছে। এমন অবস্থায় অনেক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল কর্তৃপক্ষ ত্রৈমাসিক সময়সীমার জন্য অনলাইনে টিউশন ফি প্রদানের চাপ সৃষ্টি করছে। এমন অবস্থায় দেশের সব ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের টিউশন ফি ৫০ শতাংশ মওকুফ করতে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছি। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ারও দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা সময়ে পরিবহণ ব্যয়সহ অতিরিক্ত সব ফি আদায় না করতে স্কুল কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে তারা।

এদিকে বেসরকারি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করে এককালীন অনুদান অথবা স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। দলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়। রাশেদ খান মেনন বলেন, সরকার নিজেই বলছেন, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকতে পারে। ফলে এ সময় ছাত্রদের কাছ থেকে বেতন আদায় সম্ভব হবে না। এ অবস্থায় এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ইউটিলিটি বিল কোনো কিছুই পরিশোধ করতে পারবে না। ঈদ বোনাস তো দূরের কথা। সরকার উদ্যোগ না নিলে এ প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক ঋণ পাওয়া দুষ্কর হবে। এ অবস্থায় রমজানসহ সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনায় সরকার থেকে বিশেষ ব্যবস্থা করা ছাড়া বিকল্প নেই।

নিচের পোস্টটি পড়তে ছবির উপর ক্লিক করুন

এদিকে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের কাছে প্রণোদনা চেয়েছে শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মাধ্যমের প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন। এর মধ্যে ৩৯০ কোটি টাকা প্রণোদনা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। গত শুক্রবার কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতাদের সংগঠন টেকনিক্যাল এডুকেশন কনসোর্টিয়াম অব বাংলাদেশ (টেকবিডি)। টেকবিডির সভাপতি প্রকৌশলী আবদুল আজিজ ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এ আবেদনে বলা হয়, শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি কোনো অনুদান বা আর্থিক সহযোগিতা পায় না এবং কখনো পাওয়ার জন্য আবেদনও করে না। কিন্তু বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারণে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত ও অনুমোদনপ্রাপ্ত বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা দিশেহারা। আবেদনে দেশের বেসরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের জন্য অন্যান্য পেশার মতো সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতার জন্য ৩৯০ কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল গঠন করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য ৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা চেয়েছে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন। সম্প্রতি এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয় বলে সংগঠনের চেয়ারম্যান মনোয়ারা ভূঁইয়া ও মহাসচিব মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন। প্রস্তাবে বলা হয়, সম্পূর্ণ শিক্ষার্থীদের বেতনের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় কিন্ডারগার্টেনের ছয় লাখেরও বেশি শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। কিন্ডারগার্টেন যেহেতু দেশের শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশের দায়িত্ব নিয়ে সরকারের ভার লাঘব করছে, তাই এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়ানো সরকারের কর্তব্য।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Facebook Comments