জাতি গড়ার কারিগর লাঞ্ছিত সভ্য সমাজে গ্রহণ যোগ্য নয়

662
জাতি গড়ার কারিগর লাঞ্ছিত সভ্য সমাজে গ্রহণ যোগ্য নয়।
আজ সমাজ ব্যবস্থা সভ্যতার আলোয় আলোকিত। সমাজ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। আজ প্রতিটি ঘরে ঘরে আলোর ছোয়া লেগেছে। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে শিক্ষিত লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। অশিক্ষিতের হার কমে এসেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় বর্তমানে দেখা যাচ্ছে কিছু বিবেকহীন মানুষের কারণে সমাজ ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে। আজ সবচেয়ে বড়  দুঃখের বিষয় হলো জাতি গড়ার কারিগর নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। কারণে অকারণে শিক্ষকরা পদে পদে লাঞ্ছিত হচ্ছে। যেখানে শিক্ষকরা সমাজ ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি  সম্মান পাওয়ার কথা কিন্তু দুঃখের বিষয় শিক্ষকরাই সম্মান পাচ্ছে না সমাজ ব্যবস্থায়। সমাজ আজ নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। কেউ কাউকে সম্মান করে না। পূর্বের ইতিহাস বর্তমানে আর দেখা যাচ্ছে না। পূর্বের ন্যায় শিক্ষা গুরুর সম্মান বর্তমানে কোথাও নেই। শিক্ষকরা হলো সমাজের আলোর দিশারি। সমাজকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যায়। গড়ে ওঠে শিক্ষিত জনবল। শিক্ষিত সমাজের ওপর নির্ভর করে শিক্ষিত জাতি। শিক্ষিত জাতি দ্বারা গড়ে ওঠে শিক্ষিত রাষ্ট্র। আর এই কাজগুলো যাদের দ্বারা সম্পূর্ণ হয় তারা জাতি গড়ার কারিগর। জাতি গড়ার কারিগর লাঞ্ছিত হলে বাদ থাকে কে? যারা শিক্ষকের ওপর হাত তুলে তারা আসলে মানুষ নামের অমানুষ ছাড়া কিছুই নয়। আজ বাংলাদেশ কিছু অমানুষের জন্য  বহুদিনের সম্মান হারাতে বসেছে তা একটি দেশের জন্য কখনো মঙ্গলজনক নয়। ঐসব অমানুষকে আইনের আওতায় আনা জরুরি। বর্তমান এই অবস্থা যদি চলমান থাকে তাহলে ভবিষ্যতে দেশে শিক্ষক সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কে আসবে নিজের সম্মান বিসর্জন দিতে? প্রতিটি মানুষ সম্মান নিয়ে বাঁচতে চায়। প্রতিটি শিক্ষককে বর্তমান সময়ে ভয়ে ভয়ে জীবনযাপন করতে হচ্ছে। কখন কার ওপর নির্যাতন নেমে আসবে  বলা বড় কঠিন।
শিক্ষক লাঞ্ছিত আজকাল চরম আকার ধারন করেছে। প্রতি দিনই শোনা যাচ্ছে শিক্ষক লাঞ্ছিতের কথা। গত কিছু দিন আগে ঝালকাঠিতে ম্যানেজিং কমিটি দ্বারা লাঞ্ছিত শিক্ষক এ ধরণীতে আর নেই। তাকে এমনভাবে মারপিট করা হয়েছে যে সে আর আমাদের মাঝে নেই। চলে গেলেন না ফেরার দেশে। এমন ঘটনা শিক্ষক সমাজের জন্য হুমকি এবং কলংক  স্বরুপ। বর্তমান সমাজে নৈতিক অবক্ষয় এমনভাবে বেড়ে গেছে যে , কেউ এখন নিরাপদ নয়। নিরাপদ জীবন গড়া যেখানে সকলের কর্তব্য সেখানে আজ তা বিলুপ্ত হওয়ার পথে।
যুবসমাজ আজ নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে পিছিয়ে পড়ছে সমাজ গঠন এবং রাষ্ট্রীয় কর্মকান্ড।এটা আমাদের জন্য কল্যান কর নয়। আমরা আজ সভ্য জগতে বসবাস করেও সভ্য হতে পারলাম না এটা বড়ই দুঃখের বিষয়।
 আজকাল নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে সমাজ ব্যবস্থা হুমকি স্বরুপ।সমাজে স্বাভাবিক ভাবে বাস করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। পান থেকে  চুন খসলে শুরু হয় শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনা। শিক্ষক লাঞ্ছিত হচ্ছে আজ নৈতিক শিক্ষা, মানবতা এবং  সামাজিক অবক্ষয়ের মাধ্যমে।শিক্ষক লাঞ্ছিত আজকাল ক্যান্সারের আকার ধারন করেছে। প্রতিদিনই শোনা যায় বিভিন্ন ভাবে শিক্ষকরা লাঞ্ছিত হচ্ছে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে সামাজিক মূল্যবোধ একান্ত জরুরি।   নৈতিক শিক্ষার অভাবের কারণে আজ এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। তাই এ বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া উচিৎ।  সমাজের প্রতিটি স্তরে সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। আমরা যদি আজও এ ব্যাপারে সচেতন না হই তাহলে এটা সমাজ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিবে। যেখানে শিক্ষকরা সর্বোচ্চ সম্মান পাওয়ার কথা সেখানে আজ শিক্ষকরা বিভিন্ন ভাবে লাঞ্ছিত হচ্ছে এই নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে।এটা শিক্ষক লাঞ্ছিত নয়। এটা হচ্ছে বাঙালি জাতি লাঞ্ছিত। সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার এক মাদ্রাসার শিক্ষককে যেভাবে পেটানো হয়েছে তা সত্যিই বেদনাদায়ক ঘটনা। এমন আরও অনেক লাঞ্ছিতের ঘটনা তুলে ধরা হলো – বরিশালে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের জের ধরে শিক্ষকের মাথায় মানুষের মল ঢালা, অনৈতিক কাজে বাধা দেওয়ার কারণে রড দিয়ে শিক্ষকের দাঁত ভেঙ্গে দেওয়া, নারায়নগঞ্জে শিক্ষককে কান ধরে উঠ বস করানো,শিক্ষককে লাঠি দ্বারা পিটানো,  নরসিংদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের রুমে  ঢোকে ময়লা ভর্তি বালতির পানি  গায়ে  ঢেলে দেওয়া। এটা সত্যিই হতাশা জনক ঘটনা। এ ঘটনা আদিম যুগকে ও হার মানিয়েছে। নেই মানবতা,নেই সম্মানবোধ এটা কি হতে চলেছে বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায়?  পরীক্ষার হলে সঠিকভাবে ডিউটি পালন করার অপরাধে অর্থাৎ নকলে বাধা দেওয়ার কারণে শিক্ষিকাকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে ২০১৯ সালের এস এস সি পরীক্ষায়। এই সব লোক দ্বারা সমাজ এবং রাষ্ট্রের কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। আজ শিক্ষকরা কোনো কাজই স্বাধীন মত করতে পারতেছে না। পদে পদে বাধা স্বাধীন ভাবে কাজ করার ক্ষমতা নেই সবসময়ই ভয়ে ভয়ে থাকতে হয় লাঞ্ছিত হওয়ার কারণে।
নৈতিক অবক্ষয় সমাজকে আজ ধ্বংসের ধার প্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে, সমাজ ব্যবস্থায় দেখা দিচ্ছে নিরাপত্তাহীনতা।
শিক্ষক লাঞ্ছিত মানে জাতি লাঞ্চিত। যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে জাতি আলোর পথ দেখে তাদেরকে আজ পদে পদে লাঞ্ছিত হতে হয়।
এটা কারোর কাম্য হতে পারে না।
শিক্ষা গুরুর মর্যাদা আজ সমাজ ব্যবস্থা থেকে বিলীন হওয়ার পথে। এ ব্যাপারে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করি  এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচার চাই।সরকারের প্রতি আবেদন, শিক্ষক লাঞ্চিত রোধে বিশেষ আইন জারী করে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সুবিচার নিশ্চিত করা।নতুবা জাতি ও মেধাবীরা শিক্ষকতাকে লাঞ্চিত পেশা মনে করে অগ্রাহ্য করবে। আর নয় লাঞ্ছিত সম্মান নিয়ে বাঁচতে চাই।
ধন্যবাদান্তে
মোঃ আবুল হোসেন,
সহকারী শিক্ষক (গণিত)
কুকুটিয়া কে, কে, ইনস্টিটিউশন।
শ্রীনগর,মুন্সিগঞ্জ
সিনিয়র যুগ্ম -মহাসচিব ( কেন্দ্রীয় কমিটি)
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি
মোবাইল -০১৯১৬২৯২৪৮৩

📌📌শিক্ষা সম্পর্কিত খবরাখবর জানতে এখানে ক্লিক করে শিক্ষা গ্রুপে ঢুকে JOIN GROUP এ  ক্লিক করুন।গ্রুপে আপনিও শেয়ার করুন…

👉👉দৈনন্দিন শিক্ষা সম্পর্কিত খবরাখবর পেতে এখানে ক্লিক করে দৈনিক শিক্ষা সংবাদ পেইজে ঢুকে ” LIKE PAGE ” 👍 এ লাইক দিন

♣এডমিন,সম্পাদক ও প্রকাশক

 ♣♦ Najmuddin Md. Tawhed

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Facebook Comments