তার পরেও ঈদের আনন্দ আসুক সবার ঘরে ঘরে

270

তার পরেও ঈদের আনন্দ আসুক সবার ঘরে ঘরে

মহিউদ্দিন ওসমানী : এবারের শাওয়ালের চাঁদ যেন হবে ম্রিয়মাণ। চাঁদের আলোর থাকবে না প্রত্যাশিত ঔজ্জ্বল্য। ঈদের জামায়াতে যাওয়ার সময়ও একধরনের অনিশ্চয়তা। দ্বিধায় সবার মন দ্বিধাগ্রস্ত। কারণ একটাই এক অদৃশ্য শক্তি। ব্যাপক মৃত্যুর হুমকি নিয়ে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে এই অদৃশ্য শক্তি প্রাণঘাতি সংক্রমণ ভাইরাস নভেল করোনা। চীন, ইতালী, ইরান, স্পেন, আমেরিকা,সৌদি আরবসহ পৃথিবীর বহু দেশ ও অঞ্চলে এর প্রকোপে মৃত আর আক্রান্তের মাত্রা দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এখন বাংলাদেশসহ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ গুলোতেও এর প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বে মহামারি রুপ পাওয়া লভেল করোনাভাইরাসে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে সর্বমোট আক্রান্ত-২৮৫১১ জন। মৃত্যু হয়েছে : ৪০৮ জন।
আগে সিনেমায় আমরা দেখতাম,জোম্বি,মনষ্টার আসছে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বাস্তবে এমন পৃথিবী দেখতে হবে কল্পনাও করিনি। বাংলাদেশেসহ পুরো পৃথিবী লকডাউন, ভাবা যায়! এখন এইসব ভাবতে হচ্ছে, সাথে পাচ্ছি ভয়ও, সামনের দিন কিভাবে পার করতে হবে এই চিন্তায়। বেঁচে থাকার জন্য মানুষের কোটি টাকা কোনো লাভ নাই। আমরাসহ সারা পৃথিবীর লোক সবাই মেশিনের মত দৌড়াছিলাম, পৃথিবীটা যেন একটা দৌড়ের মধ্যে ছিল। এখন পৃথিবীর সব প্রতিষ্টান, সব সড়ক বন্ধ এবং ফাঁকা, নীরব, সবখানে এখন খাঁ খাঁ করছে। করোনাভাইরাস পৃথিবীকে আমার প্রিয় বাংলাদেশকে মৃত্যুপুরী বানিয়ে দিয়েছে। প্রতিদিন খবর আসছে সারা পৃথিবীতে শত শত মানুষের মৃত্যু। সামনে কি হবে, বুঝতে পারছি না, অনিশ্চয়তা আরো বাড়ছে।

এ ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন অনিশ্চয়তা এবং সমাজব্যাপী ভয় আতংকের মধ্যেও ঈদ আসবে প্রাকৃতিক নিয়মে। বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে এবারের ঈদ আসবে অনেকটা মেঘে ঢাকা চাঁদের আলোর মত। শাওয়ালের চাঁদ উঠবে বটে :কিন্তু কুন্ঠায় আচ্ছন্ন যেন। অনিশ্চয়তার অবগুণ্ঠনে ঢাকা। উদার আকাশে ভীরু চাঁদের কম্পমান আলোর মত। সত্যি বটে, ঈদ হলো আবাল -বৃদ্ধ-বনিতার অনুষ্ঠান। ধনী দরিদ্র সবার জন্য আনন্দঘন দিনটি।পল্লী ও শহরাঞ্চলের সবাই এই অনুষ্ঠানে উদ্বেল হয়ে উঠেন। উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন শিক্ষিত ও নিরক্ষরদের সবাই। সবাই এই দিনে প্রিয়জনদের সান্নিধ্য পেতে চান। দু’দন্ড কাটাতে চান আপনজনদের সাথে। সন্তানরা দূর থেকে ছুটে যেতে চায় মা-বাবার কাছে। স্বামী ছুটে যেতে চায় প্রিয়তমা স্ত্রীর কাছে। বাবা হাজারো প্রতিবন্ধকতা জয় করে ছুটে চলেন সন্তানদের কাছাকাছি। সবাই ভাগাভাগি করে নিতে চান ঈদের আনন্দটাকে। ঈদের জামাতে ছোট বড় এক সাথে কৃতজ্ঞতা জানাই আল্লাহর কাছে। বাবা ছোট ছেলেটাকে হাত ধরে নিয়ে যান ঈদের জামাতে। নামাজ শেষ হলে সবাই কোলাকুলি করে আপন করে নিতে চায় সবাইকে। মুরব্বীদের সালাম জানিয়ে দোয়া কামনা করে। সুখ-দুংখের আলাপচারিতায় সবাই দু’দন্ড সব জ্বালা ভুলে গিয়ে অনুভব করেন বেহেস্তি সুখ।সমগ্র সমাজব্যাপী ঈদের আনন্দ গড়িয়ে পড়ে স্নেহ -প্রেম-প্রীতির অঝোর ধারায়। প্লাবিত করে সমাজজীবনের চারিদিক।
কিন্তুু ওই যে বলেছি, এবারের চাঁদ যেন ম্রিয়মাণ। চাঁদের আলোর নেই প্রত্যাশিত ঔজ্জ্বল্য। ঈদের জামাতে যাওয়ারও এক ধরনের অনিশ্চয়তা। দ্বিধা সবার মনকে দ্বিধাগ্রস্ত করে। এবার হয়তো দেখা হবে না, ভাই- ভাইয়ের সাথে,স্বামীর সাথে স্ত্রীর, মা-বাবার সাথে সন্তানের কারণ ভয় সে এক অদৃশ্য শক্তির। যার ভয়ে আজ সারা পৃথিবীর মানুষ ঘরের মধ্যে বন্ধী। তারপরও আমাদের ঐকান্তিক কামনা। সবার ঘরে ঘরে আসুক ঈদের আনন্দ।সবার মুখে হাসি ফুটুক, অন্তত এই দিন।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Facebook Comments