পবিত্র আখেরী চাহার সোম্বা ১৪ অক্টোবর

384

পবিত্র আখেরী চাহার সোম্বা ১৪ অক্টোবর

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের আকাশে শুক্রবার ১৪৪২ হিজরি সনের পবিত্র সফর মাসের চাঁদ দেখা গিয়েছে। ফলে শনিবার থেকে পবিত্র সফর মাস গণনা শুরু হবে। সে প্রেক্ষিতে আগামী ২৬ সফর, ১৪ অক্টোবর পবিত্র আখেরী চাহার সোম্বা (মহানবী (সা.) এর রোগমুক্তির দিন) উদযাপিত হবে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আলতাফ হোসেন চৌধুরী।

সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ, তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এস এম মাহফুজুল হক, সিনিয়র উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. শাহেনুর মিয়া, মন্ত্রি পরিষদ বিভাগের উপ-সচিব মো. শাফায়াত মাহবুব চৌধুরী, ওয়াক্ফ প্রশাসক এস এম তারিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক (প্রশাসন) মুহা. নেছার উদ্দিন জুয়েল, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের পিএসও আবু মোহাম্মদ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. আবদুল মান্নান, মাদরাসা-ই-আলিয়ার অধ্যক্ষ মো. আলমগীর রহমান, বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান ও লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ নেয়ামতুল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পবিত্র আখেরী চাহার সোম্বার ইতিহাস

আগামী ২৬ সফর, ১৪ অক্টোবর পবিত্র আখেরী চাহার সোম্বা (মহানবী (সা.) এর রোগমুক্তির দিন) উদযাপিত হবে। এ দিনে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জ্বরমুক্ত হয়ে সর্বশেষ গোসল করেন। গোসল শেষে নাতিদ্বয় হযরত ইমাম হাসান (রা.), হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) এবং মা ফাতেমা (রা.) কে ডেকে এনে তাদের সাথে সকালের নাস্তা করেন। হযরত বেলাল (রা.) এবং সুফফাবাসীগণ বিদ্যুতবেগে এ সুসংবাদ মদিনার ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দেন। এ সুসংবাদে সাহাবায়ে কেরামগণের মধ্যে আনন্দের ঢেউ খেলে যায়। তারা বাঁধভাঙা স্রোতের ন্যায় দলে দলে এসে হুজুর (সা.)-কে একনজর দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠেন।

হুজুর (সা.)-এর রোগমুক্তিতে সাহাবায়ে কেরাম এতটাই খুশী হয়েছিলেন যে, হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রা.) তৎকালীন সময়ে ৫ হাজার দিরহাম গরীবদের মধ্যে বিলি করেছিলেন। হযরত ওমর (রা.) দান করেন ৭ হাজার দিরহাম। হযরত ওসমান (রা.) দান করেছিলেন ১০ হাজার দিরহাম ও হযরত আলী (রা.) দান করেছিলেন ৩ হাজার দিরহাম। ধনী ব্যবসায়ী হযরত আবদুর রহমান (রা.), ইবনে আউফ (রা.) ১০০ উট আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দেন। রাসূল (সা.)-এর সামান্য আরামবোধের কারণে সাহাবীগণ কিভাবে জান-মাল উৎসর্গ করতেন এটাই তার সামান্য নমুনা। সুবহান আল্লাহ।

রাসূল (সা.) এর রোগমুক্তির দিবস আখেরি চাহার সোম্বার দিনকে স্মরণীয় করে রাখতে পারস্যসহ এশিয়ার পাক-ভারত উপমহাদেশে অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে এ দিনটি পালন করা হয়। যারা এ দিবস পালনকে বিদ’আত বলে অপপ্রচার করে তারা এ ঘটনাকে মুসলমানদের হৃদয় থেকে মুছে ফেলার জন্যই তা করে। এরা সাহাবায়ে কেরামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ইমান হারা হচ্ছে। অথচ পবিত্র কুরআনে পূর্ববর্তী অনেক ঘটনার বর্ণনা রয়েছে মানুষকে স্মরণ ও সতর্ক করে দেয়ার জন্য। ফেরাউনের ঘটনা, হযরত ইব্রাহীম (আ.) অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপের এবং মুক্তির ঘটনা পবিত্র কুরআনে বর্ণিত বহু অতীত ঘটনারই অংশ।

কুরআনের এসব অতীত ঘটনা স্মরণ করে মানুষ হেদায়েতের আলো লাভ করে। আখেরি চাহার সোম্বার দিনে গোসল শেষে শোকর গোজার হিসেবে দু’রাকাত নফল নামাজ আদায় শেষে রোগ থেকে মুক্তির দোয়া ও দান-খয়রাত হচ্ছে বুজুর্গানে দ্বীনের আমল। আখেরি চাহার সোম্বার দিবস স্মরণে মুসলীম বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও বিভিন্ন দরবার, মাজার, খানকায় নফল নামাজ, ওয়াজ-নসিহত, জিকির-আজকার, মিলাদ, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। এদিন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি ছুটির দিন এবং অফিস-আদালতে ঐচ্ছিক ছুটির দিন।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Facebook Comments