প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে কমানো হচ্ছে ক্লাস পরীক্ষা সিলেবাসেও কাটছাঁট

514

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে কমানো হচ্ছে ক্লাস পরীক্ষা সিলেবাসেও কাটছাঁট

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা : করোনার কারণে গত ১৭মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যদিও মার্চ থেকে এপ্রিল এই দুই মাস শিক্ষার্থীদের তাদের পাঠ্যধারা এগিয়ে নেয়ার কথা। শিক্ষাবর্ষের জানুয়ারি মাস নতুন এবং পুনঃভর্তি ছাড়াও বই পুস্তক কেনা, ক্রিড়াসপ্তাহ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজে চলে যায়। ফেব্রুয়ারিতে চলছে পুরোমাস এসএসসি পরীক্ষা এর পরই শুরু হয় মূল পাঠধারা। কিন্তু এ বছর ঠিক সেই সময়টাতেই বড় একটি গ্যাপ সৃষ্টি হয়েছে পড়াশোনায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবে খুলবে আবার কবে ক্লাসে ফিরবে শিক্ষার্থীরা সেটা এখনো অনিশ্চিত।প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে অচল হয়ে পড়েছে দেশের শিক্ষা কার্যক্রম। এমন পরিস্থিতিতে কয়েক দফায় আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় পর্যন্ত দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এর বাইরে শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী রমযান মাসসহ ৩০ মে পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। সব মিলিয়ে ধরেই নেওয়া যাচ্ছে আগামী ৩০ মে এর আগামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলবে না। এ অবস্থায় চলতি শিক্ষাবছরের অর্ধেক সময় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করে ক্লাস-পরীক্ষা কমিয়ে আনার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ক্লাসে পাঠদান

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) মহাপরিচালক ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক এমন পরিস্থিত চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করে ক্লাস-পরীক্ষা কমিয়ে আনার চিন্তাভাবনার কথা জানালেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে টানা একমাস বন্ধ থাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। এ পরীক্ষা আগামী ১৫ থেকে ২৪ এপ্রিল হওয়ার কথা ছিল। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা টেলিভিশনে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করেছি। যারা টেলিভিশনে ক্লাস করতে পারছে না তারা ওয়েবপোর্টালের মাধ্যমে সেসব ক্লাস করতে পারছে। আমাদের কিছু প্রতিকূলতা থাকার পরও কিছু শিক্ষার্থী এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকছে। তাদের কথা চিন্তা করে বিদ্যালয় খুললে সেসব ক্লাস সংক্ষিপ্ত আকারে শিক্ষকরা রিভিশন দেবে।

জানা গেছে, গত একমাস ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের চলতি বছরের সিলেবাস অনুযায়ী ক্লাস-পরীক্ষা আয়োজন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হবে তা অনিশ্চিত অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে সংসদ টেলিভিশনে পাঠদান সম্প্রচার শুরু করা হলেও নানা প্রতিকূলতার কারণে অনেকে সেসব ক্লাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আবার কারিগরি, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের এর আওতায় আনা হয়নি। এ কারণে টেলিভিশন পাঠদান নিয়ে এক ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে এমন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শিক্ষার্থীরা ছয় মাস পিছিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। এটি পুষিয়ে নিতে সিলেবাসের ক্লাস-পরীক্ষা কমিয়ে শিক্ষাবর্ষ শেষ করতে একটি নতুন পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

সিলেবাস পরিবর্তনের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক মো. গোলাম ফারুক চৌধুরী বলেন, সাধারণ ছুটির মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সিলেবাস পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না। তবে এটি আরও দীর্ঘায়িত হলে সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করা হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে কিছু ক্লাস-পরীক্ষা কমিয়ে আনা হতে পারে।

📌📌শিক্ষা সম্পর্কিত খবরাখবর জানতে এখানে ক্লিক করে শিক্ষা গ্রুপে ঢুকে JOIN GROUP এ  ক্লিক করুন।গ্রুপে আপনিও শেয়ার করুন…

👉👉দৈনন্দিন শিক্ষা সম্পর্কিত খবরাখবর পেতে এখানে ক্লিক করে দৈনিক শিক্ষা সংবাদ পেইজে ঢুকে ” LIKE PAGE ” 👍 এ লাইক দিন

♣এডমিন,সম্পাদক ও প্রকাশক

 ♣♦ Najmuddin Md. Tawhed

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Facebook Comments