প্লাস [+] চিহ্নিত ফোন কলে সাবধান

1590

প্লাস [+] চিহ্নিত ফোন কলে সাবধান

নিজস্ব প্রতিবেদক : গ্রাহক ভাবছেন এটা কোন কাস্টমার কেয়ারের নাম্বার। হুবহু ডিজিট। অপর প্রান্তের ব্যক্তিকে বিশ্বাস করে তাই গ্রাহক দিয়ে দিচ্ছেন তার মোবাইল ব্যাংকিং কিংবা ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডের গোপন তথ্য। পরে প্রতারকরা হাতিয়ে নিচ্ছে গ্রাহকের সব অর্থ। তবে র‍্যাব বলছে, নাম্বার এক হলেও প্রতারকদের কলের ক্ষেত্রে সাধারণত নাম্বারের আগে ‘প্লাস চিহ্ন’ থাকে।

🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿

📍📍প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ব বিদ্যালয়, মেডিকেল, ও প্রকৌশল বিশ্ব বিদ্যালয় সহ শিক্ষা বিষয়ক সব ধরণের নির্ভরযোগ্য খবরাখবর সবার আগে পেতে এখানে ক্লিক করে দৈনিক শিক্ষা সংবাদ পেইজে ঢুকে ” LIKE PAGE ” 👍 এ লাইক দিন।

☘️🍀☘️🍀☘️🍀☘️🍀☘️🍀☘️🍀☘️🍀☘️🍀☘️🍀

📌📌আপনি কি চান শিক্ষা জাতীয়করণ হোক? শিক্ষায় বৈষম্য দূর হোক? শিক্ষকদের অধিকার আদায় হোক? তো দেরি কেন? এখুনি জয়েন্ট করতে ক্লিক করুন শিক্ষা গ্রুপে। আপনিও লিখুন, মতামত দিন, কমেন্ট করুন, লাইক দিন শেয়ার করুন।

🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴

সম্প্রতি কিছু অভিযোগের তদন্তে এমনটাই বেরিয়ে এসেছে। এসব ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অপরাধে রাজধানী এবং ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকা থেকে র‍্যাব-২ এবং র‍্যাব-৮ এর যৌথ অভিযানে এ চক্রের ১৩ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজধানীর কাওরান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম এসব তথ্য জানান। আটকদের কাছ থেকে ১৪ লাখ ৮৩ হাজার ৪৬২ টাকা, ৩১টি মোবাইল ফোন, ২টি ল্যাপটপ, ২টি ট্যাব, ১২০টি সিম, ১টি রাউটার এবং ১টি টিভি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো, নাজমুল জমাদ্দার (১৯), হাসান মীর (১৮), ইব্রাহিম মীর (১৮), তৌহিদ হাওলাদার (২৩), মোহন শিকদার (৩০), পারভেজ মীর (১৮), সোহেল মোল্যা (২৬), দেলোয়ার হোসেন (৩৫), সৈয়দ হাওলাদার (২০), রাকিব হোসেন (২৪), মোহাম্মদ আলী মিয়া (২৬), পলাশ তালুকদার (৩৪) ও ইমন (২৫)।
লে. কর্নেল সারওয়ার বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে মানুষের বাইরে যাওয়া এড়াতে মোবাইল ব্যাংকিং কিংবা ডেবিট- ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন বেড়েছে। আর এ সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে প্রতারকচক্র। বেশ কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে এ চক্রের ১৩ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়, যারা প্রত্যেকেই প্রাথমিকভাবে এ অপরাধের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
একজন মাস্টারমাইন্ডের অধীনে ৩০-৩৫ জন সদস্য কাজ করে জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণত পাঁচটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করে থাকে চক্রটি।
প্রথমত, চক্রের ‘হান্টার টিমের’ সদস্যরা মাঠপর্যায়ে গ্রাহকদের তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। তারা বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা, মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টদের নাম্বার সংগ্রহ করে মাস্টারমাইন্ডদের সরবরাহ করে।

দ্বিতীয় ধাপে ‘স্পুফিং টিমের’ সদস্যরা কাস্টমার কেয়ার নাম্বার কিংবা ব্যাংক কর্মকর্তার নাম্বার ক্লোন করে। এর ফলে প্রতারকরা যখন গ্রাহকদের টার্গেট করে ফোন দেয়, তখন হুবহু সংশ্লিষ্ট নাম্বারটি দেখতে পায়। এতে সহজেই বিভ্রান্ত হয়ে অনেক উচ্চশিক্ষিতরাও ফাঁদে পা দিচ্ছেন। প্রতিটি নাম্বার স্পুফিং বা ক্লোন করতে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পায় এ টিমের সদস্যরা।

তৃতীয় ধাপে সবচেয়ে প্রধান কাজটি করে থাকে ‘কাস্টমার কেয়ার’ টিমের সদস্যরা। তারা ১৫-২০ জন একসাথে একটি রুমে বসে কথাবার্তা বলে একটি সত্যিকারের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের আবহ তৈরি করে। গ্রাহককে ফোন দিলে আশপাশের নয়েজের মাধ্যমে বিভ্রান্ত করা হয়।
চক্রের মাস্টারমাইন্ড নিজেই দলটি পরিচালনা করে। তারা কাস্টমার কেয়ার কর্মকর্তা সেজে কৌশলে গ্রাহকের কাছ থেকে গোপন পাসওয়ার্ড কিংবা ভেরিফিকেশন কোডসহ বিভিন্ন তথ্য নিয়ে নেয়। সাথে থাকা অন্য কেউ অ্যাপসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে অর্থ হাতিয়ে নেয়। এ জন্য তারা নির্জন কোনো চর বা গাছপালা ঘেরা নিরাপদ জায়গা বেছে নেয়।

চতুর্থ ধাপে ‘টাকা উত্তোলন’ টিমের সদস্যরা গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ ট্রান্সফারের পর পর দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা এজেন্টদের মাধ্যমে নগদ টাকা উঠিয়ে নেয়। যেসব ব্যালান্স উত্তোলন করা সম্ভব হয় না, সেসব দিয়ে বিভিন্ন কেনাকাটা করে নেয় তারা।

শেষ ধাপে ‘ওয়াচম্যান’ টিমের সদস্যরা স্থানীয়ভাবে ছোটখাটো দোকান চালানোর কাজে সম্পৃক্ত। যারা এলাকায় নতুন কোনো আগন্তুক কিংবা সন্দেহভাজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সন্দেহ হলে মাস্টারমাইন্ডকে খবর দেন। তারা ঘণ্টাভিত্তিক বা চুক্তিভিত্তিক কাজ করে থাকেন।
প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দলের মাস্টারমাইন্ড নিজের জন্য ৫০ ভাগ, সহযোগীদের জন্য ৩০ ভাগ, হান্টার টিমকে ২০ ভাগ এবং স্পুফিং টিমকে নাম্বারপ্রতি এক-দেড় হাজার টাকা কিংবা কথা বলার সময়ের ভিত্তিতে টাকা প্রদান করে থাকে। এ ছাড়া, লটারি জেতার কথা বলেও সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছিল তারা।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৯ জনই মাস্টারমাইন্ড উল্লেখ করে র‍্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, আটক মোহন গত দুই মাসে প্রায় এক কোটি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে উপার্জন করেছে বলে জানতে পেরেছি। একটি গ্রুপকে আমরা ধরতে পেরেছি। সারা দেশে এমন ৪-৫টি গ্রুপ সক্রিয় থাকতে পারে, যাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। গ্রাহকদের নাম্বার হাতিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে এ চক্রের সাথে মোবাইল ব্যাংকিং কিংবা ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা জড়িত কি-না খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।
সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, নাম্বার স্পুফিং বা ক্লোন করায় গ্রাহকরা হুবহু সংশ্লিষ্ট নাম্বার থেকেই ফোন পাবেন। ফোন করে অ্যাকাউন্ট বাতিল, স্থগিত বা সিস্টেম আপগ্রেডের কথা বলে তথ্য, পিন বা ভেরিফিকেশন কোড জেনে নিয়ে অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণে নেয়। কিন্তু প্রতারকদের স্পুফিং নাম্বারের আগে সাধারণত ‘প্লাস চিহ্ন’ থাকে। উদাহরণস্বরূপ কোনো কাস্টমার কেয়ারের নাম্বার যদি ‘১২২১’ হয়, তাহলে প্রতারকদের দেয়া ফোন কলে নাম্বার হবে ‘+১২২১’।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Facebook Comments