বর্তমান সময়ে   দাবি আদায়ে শিক্ষকরাই শিক্ষকের প্রতিপক্ষ

362

বর্তমান সময়ে দেখা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ যখনই দাবি আদায়ে এগিয়ে যেতে চায় তখনই শুরু হয়ে যায় চর্তুমুখী ষড়যন্ত্র। আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করার সাথে সাথে শুরু হয়ে যায়  বিরুপ মন্তব্য করা।সাধারণ  শিক্ষকদের আটকিয়ে দেওয়া হয় সংগঠনের দোহাই দিয়ে। আপনারা উক্ত অনুষ্ঠানে যাবেন না তাতে আমাদের সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মূল্য থাকে না। ওরা আন্দোলনের ডাক দিয়েছে কিছুই করতে পারবে না আমরাই আগামীতে সবকিছু করে ফেলব। সাধারণ শিক্ষকরা সত্যিই আজ মহাবিপদে আছে। কোন দিকে যাবে কি করবে বুঝে উঠতে পারতেছে না। সাধারণ শিক্ষকরা বর্তমান সময়ে চরম হতাশায় নিমজ্জিত। শিক্ষক সংগঠন গুলোর অনৈক্যের কারণে দাবি আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না।কিছু বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা আজব কর্মকান্ড চালায়। বুঝে অথবা না বুঝে বিভিন্ন সংগঠনের কিছু নামধারী শিক্ষক  দাবি আদায়ের পক্ষে কাজ না করে  বিভিন্ন ধরনের চুলকানি মূলক পোস্ট অথবা কমেন্ট  করে। তাতে মনে হয় ওরা শিক্ষক তো নাকি নামধারী অন্য কেউ? আমাদের দাবিকে দামাচাপা দেয়ার এটি একটি বিশেষ পরিকল্পনা। তানাহলে এমনভাবে কমেন্ট করতে পারে নাকি। যেখানে এই মুহূর্তে আমাদের প্রয়োজন সকলে দলমত নির্বিশেষে দাবি আদায়ে একে অপরকে সহযোগিতা করা। এমনকি প্রতি জেলা, থানা, ইউনিয়ন, গ্রাম, প্রতিটি ওয়াডে জাতীয়করণ আদায়ের পক্ষে কাজ করে শিক্ষক সমাজকে জাগ্রত করা। তা না করে একে অপরের পিছনে কাঁঠালের আঠার মত লেগে থাকে। সামনে এগুতে থাকলে পিছন থেকে টেনে ধরে। আজ আমরা পিছিয়ে পড়েছি দাবি আদায়ে শুধু আমাদের নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে। আমরা শিক্ষক এটা ভুলে গেলে চলবে কীভাবে? আমাদের আচরণ যদি এমন হয়, কেউ দাবি আদায়ে এগিয়ে গেলে তাকে এগুতে দেওয়া যাবে না, তাহলে আমরা দাবি আদায় করব কীভাবে? এক্ষেত্রে আমার মনে হয় প্রতিহিংসা কাজ করে। আমরা যেহেতু পারব না আর অন্য কাউকে এগুতে দেওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে  দাবি আদায় মূখ্য বিষয় নয়। মূখ্য বিষয় হলো নেতৃত্ব ধরে রাখা। সাধারণ শিক্ষকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এর বেশি কিছু নয়। আজ সাধারণ শিক্ষক বৃন্দ জেগে উঠুন ঐসব সংগঠনের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে। আর কতকাল চুপ করে বসে থাকবেন। এখনই সঠিক সময় নিজে জেগে উঠুন অন্যকে দাবি আদায়ে উৎসাহিত করুন। আপনারা যদি সহযোগিতা করেন তাহলে জাতীয়করণ আদায় করা সময়ের ব্যাপার। যারা জাতীয়করণ আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতে চায় তাদেরকে বয়কট করুন। যারা দ্বিমত পোষণ করে তারা আসলে জাতীয়করণ বিরোধী শক্তি। মুখে মুখে বলে জাতীয়করণ চাই আসল উদ্দেশ্য জাতীয়করণ আন্দোলনকে ভণ্ডুল করা। এই গ্রুপ কাজ করে   যাতে জাতীয়করণ আদায় কখনো না হয়। জাতীয়করণ হয়ে গেলে ওদের নেতৃত্ব চলে যাবে। এই গ্রুপ গোপনে গোপনে কাজ করে শিক্ষকদের বিচ্ছিন্ন করে রাখে  জাতীয়করণ আদায়ের আন্দোলন থেকে।  এদের থেকে সকলকে সাবধান থাকতে হবে। সকল বাধা বিঘ্নকে অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে হবে সফলতা পাবার জন্য। দাবি আদায়ে কারোর কথা শোনা যাবে না। নিজের বিবেক বুদ্ধি দিয়ে জাতীয়করণ আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করে এগিয়ে যেতে হবে নির্দিষ্ট গন্তব্যে। জাতীয়করণ আদায়ের জন্য বাশিস নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় কিছু সংগঠন নিজে কাজ করা তো দূরের কথা  অন্যকেও কাজ করতে দিচ্ছে  না। পিছন থেকে ল্যাং মারা হচ্ছে।  একটি কথা মনে পড়ে গেল – একটি বানর গাছে উঠতে লাগল।  কিন্তু অন্য একটি বানর তা লক্ষ্য করল,  সেই বানরটি ছিল খোড়া। সে ভাবল আমিতো পায়ে আঘাত পেয়েছি গাছে উঠতে পারব না।কিন্তু  আমিও তাকে  গাছে উঠতে দিব না। এই বলে গাছে উঠতে থাকা বানরটির লেজ টেনে ধরল ঐ খোড়া বানরটি।এক পর্যায়ে  ফলাফল হলো কেউ কাউকে উপরে উঠতে দিল না। আমাদের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক সংগঠন গুলোর আচরণ প্রায় একই। নিজে কাজ করবে না  অন্যকেও কাজ করতে দিবে না। দাবি আদায় হবে কীভাবে?  আমাদের স্বপ্ন পূরণে অপরিহার্য হলো নিজে কাজ করুন এবং অন্যকে কাজ করতে উৎসাহিত করুন। তাহলেই আমরা আমাদের স্বপ্ন পূরণে সক্ষম হব।

ধন্যবাদান্তে
মোঃ আবুল হোসেন
সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব
বাশিস (কেন্দ্রীয় কমিটি
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Facebook Comments