বাড়ি ভাড়া এবং চিকিৎসা ভাতার ব্যয় নিয়ে চরম সংকটে বেসরকারি শিক্ষকরা

2614

বাড়ি ভাড়া এবং চিকিৎসা ভাতার ব্যয় নিয়ে চরম সংকটে বেসরকারি শিক্ষকরা

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়। সকলের নিকট শিক্ষা ব্যবস্থার সুযোগ সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে। শিক্ষায় দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য। কথায় আছে, যে দেশ যত বেশি শিক্ষিত সে দেশ তত বেশি উন্নত। স্বাধীনতার এত বছরেও বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পেল না পরিপূর্ণ সুযোগ সুবিধা। সরকারি এবং বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় বিভক্ত বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা। কারিকুলাম এক এবং পাঠ্যপুস্তক এক তবুও শিক্ষা ব্যবস্থায় চরম বৈষম্য বিরাজমান। বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যাচ্ছে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা অগ্রগামী। সরকারি শিক্ষকরা পায় পূর্ণাঙ্গ সুযোগ সুবিধা আর বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পায় নাম মাত্র সুযোগ সুবিধা। শিক্ষা ব্যবস্থায় এ বৈষম্য বিরাজমান থাকার কারণে শিক্ষক অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে সর্বস্তরে। দাবি আদায়ে চলছে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর কত শিক্ষক যে মানবেতর জীবনযাপন করেছে তার ইয়াত্তা নেই। পূর্বে যারা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক ছিলেন তারা সীমাহীন কষ্টের মধ্যে জীবন যাপন করতে হয়েছে। বর্তমান সময়ে এর কিছুটা হলেও পরিবর্তন হয়েছে সত্য কিন্তু দুঃখের বিষয় বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা আজও বাড়ি ভাড়া এবং চিকিৎসা ভাতা পায় নাম মাত্র। যা বর্তমান সময়ে জন্য বেমানান। বিশ্বের কোথাও শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া এবং চিকিৎসা ভাতা এত নগণ্য তা লক্ষণীয় নয়। বিশ্বের প্রতিটি দেশে শিক্ষকরা সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা ভোগ করে। শুধু বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় চরম বৈষম্য বিরাজমান আছে বলে মনে হচ্ছে। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বাড়ি ভাড়া পায় ১০০০ টাকা এবং চিকিৎসা ভাতা পায় ৫০০ টাকা। সভ্যতার পরিবর্তন হয়েছে। যুগের পরিবর্তন হয়েছে। মানুষের জীবন যাত্রার মানের পরিবর্তন হয়েছে। সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। বাংলাদেশ আজ বর্তমান বিশ্বের জন্য একটি রুল মডেল হিসেবে পরিগনিত। উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় দ্বিতীয়। বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছে গেছে। প্রতিটি মানুষের মাথা পিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের প্রতিটি সেক্টরের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে। শিল্প কলকারখানা, রাস্তা ঘাট, কৃষি, ব্যাংক, বীমা, বিদ্যুৎ, মৎস প্রভৃতি ক্ষেত্রে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে আজ বাংলাদেশ। আজ বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। নিজ অর্থায়নে পদ্মাসেতুর কাজ আজ প্রায় শেষ প্রান্তে। দেশের রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে। ব্রীজ, কালভাট, ফ্লাইওভার করা হচ্ছে, নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ আরও মেগা প্রকল্পের কাজ সরকার হাতে নিয়েছে। অনেক কাজ প্রায় শেষ হওয়ার পথে কিন্তু দুঃখের বিষয় বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষকরা বাড়ি ভাড়া এবং চিকিৎসা ভাতা যে নাম মাত্র পায় তার কোন হলো না আজও পরিবর্তন কিংবা পরিবর্ধন।

——————————————————————-

📌📌শিক্ষা সম্পর্কিত খবরাখবর জানতে এখানে ক্লিক করে শিক্ষা গ্রুপে ঢুকে JOIN GROUP এ  ক্লিক করুন।গ্রুপে আপনিও শেয়ার করুন…

——————————————————————-

👉👉দৈনন্দিন শিক্ষা সম্পর্কিত খবরাখবর পেতে এখানে ক্লিক করে দৈনিক শিক্ষা সংবাদ পেইজে ঢুকে ” LIKE PAGE ” 👍 এ লাইক দিন

——————————————————————-

রোনা ভাইরাসের সংক্রমণে আজ সারা বিশ্বের জীবন যাত্রায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশেও তার প্রভাব পড়েছে। আজ বাংলাদেশে মানুষের জীবন যাপন কঠিন হয়ে পড়ছে। অফিস আদালত সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। সকল পেশার মানুষের আয়ের উৎস প্রায় বন্ধ। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে বর্তমান সময়ে শিক্ষকদের ও আয়ের উৎস বন্ধ। ব্যয় আছে আয় নেই। জীবন চলার পথ স্থবির হয়ে গেছে। জীবন অতিবাহিত হচ্ছে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অচলাবস্থায়। নেই কোন বাড়তি ইনকাম। সংসার চালাতে তাই বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে। মহামারির এই সময়ে আরেক মহামারি দেখা দেওয়ার পথে। যতই দিন অতিবাহিত হচ্ছে ততই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন শিক্ষকরা। নেই কোন বিকল্প আয়ের উৎস। কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করবে শিক্ষকরা? বর্তমানে দেখা যাচ্ছে লোক লজ্জার ভয়ে মুখ খুলতে পারতেছেনা শিক্ষকরা। নিরবে তাই অভাবের যন্ত্রণা সহ্য করতে হচ্ছে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের। অনেকে আবার এই চাকরির আয়ের উৎসের উপর নির্ভরশীল।

নিচে পোস্টটি পড়তে ছবির উপর ক্লিক করুন
পবিত্র রমযান মাস শুরু হয়ে গেছে । অভাব অনটনের মধ্যে অতিবাহিত করতে হচ্ছে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাস্তব জীবন। বর্তমান সময়ে বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে জীবন চলার পথ কঠিন থেকে কঠিন হচ্ছে স্বল্প আয়ের শিক্ষকদের। প্রতি বছরই বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি করে বাড়ির মালিক গণ। বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের। অনেকের আবার নুন আনতে পানতা ফুরায় অবস্থা। সরকারি অংশ বাদে আয়ের উৎস বলতে কিছুই নেই। পরিবারের ভরণপোষণ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক সমাজের। পরিবার বর্গের আশা পূরণ করা একজন শিক্ষকের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। কোন উপায় না পেয়ে তাই ধারদেনা করে স্বপ্ন পূরণ করতে হয় সকলের। প্রতিটি মুহূর্তে হিমশিম খেতে হচ্ছে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জীবনযাপনে। আর কতকাল অপেক্ষা করতে হবে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বৈষম্যের অবসানকল্পে। ভাগ্যের চাকায় জং ধরে গেছে। কেউ নেই দেখভাল করার। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা আজও রয়ে গেল চরম বৈষম্যের স্বীকার হয়ে। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বহু দিনের লালিত স্বপ্ন সরকারি ন্যায় বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতার। দীর্ঘ একযুগেরও বেশি সময় অতিবাহিত হচ্ছে তবুও বাড়ি ভাড়া কিংবা চিকিৎসা ভাতার কোন পরিবর্তন হলো না। স্কেল পরিবর্তন করার সময় ৫০০ টাকার বাড়ি ভাড়া করা হয়েছে ১০০০ টাকা এবং চিকিৎসা ভাতা করা হয়েছে ৫০০ টাকা। যে সামান্য বাড়ি ভাড়া এবং চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয় বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের তা দিয়ে বাড়ি ভাড়া কিংবা চিকিৎসা কোন প্রয়োজনই মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। বাড়ি ভাড়া ১০০০ টাকা এবং চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা। বাংলাদেশের কোথাও বর্তমানে এই ১০০০ টাকায় বাড়ি ভাড়া পাওয়া সম্ভব নয়। সর্বনিম্ন বাড়ি ভাড়া গ্রামাঞ্চলে যেখানে ৪০০০ টাকা থেকে ৮০০০ টাকা এবং শহরাঞ্চলের বাড়ি ভাড়া সর্বনিম্ন ১০০০০ টাকা থেকে ২০০০০ টাকা। এমতাবস্থায় শিক্ষকরা বাকি টাকা কোথায় পাবে? চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা যেখানে ডাক্তার ফি সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা। বাড়ি ভাড়া এবং চিকিৎসা ভাতার প্রয়োজন মেটানোর পর যা অবশিষ্ট থাকে তা দিয়ে সংসারের ভরণপোষণ করার বাকি টাকা জোগাড় করতে ছুটতে হয় ধারদেনার জন্য। শিক্ষকদের এ পিছুটান শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে বাধ্য। তাই শিক্ষকদের আগে স্বাবলম্বী করা প্রয়োজন।

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের এই বৈষম্যের হাত থেকে রক্ষা করতে তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট বিনীত অনুরোধ আপনি সার্বিক দিক বিবেচনা করে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পূর্বে সরকারি ন্যায় বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতার ঘোষণা দিয়ে বৈষম্যমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা জাতিকে উপহার দিবেন এই মুজিববর্ষেই সেই প্রত্যাশায় পথ চেয়ে বসে আছি আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক বৃন্দ।

ধন্যবাদান্তে
মোঃ আবুল হোসেন
শ্রীনগর, মুন্সিগঞ্জ
সিনিয়র যুগ্ম- মহাসচিব
বাশিস (কেন্দ্রীয় কমিটি)
০১৯১৬২৯২৪৮৩

♦মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Facebook Comments