“টিভিতে পাঠদানের রেকর্ডিং ব্যয় ১৬ কোটি টাকা” শিরােনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

487

“টিভিতে পাঠদানের রেকর্ডিং ব্যয় ১৬ কোটি টাকা” শিরােনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মাে. গােলাম ফারুক

উল্লিখিত শিরোনামে বিভিন্ন মিডিয়া ও সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদের কিছু কিছু অংশে মাধ্যমিক
ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সুস্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে।

আপনারা জানেন COVID19 এর ফলে বৈশ্বিক মহামারী দেখা দিয়েছে। এটি বাংলাদেশকেও আক্রান্ত করেছে। সরকার এ রােগ প্রতিরােধের অংশ
হিসেবে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে
যায়। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ক্ষতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপােষকতায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর টেলিভিশন সম্প্রচারের
মাধ্যমে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত শ্রেণি কার্যক্রম চালিয়ে নেয়ার একটা সৃজনশীল উদ্যোগ গ্রহণ করে। আমাদের পরিকল্পনা ছিলাে ৫টি শ্রেণির
জন্য দৈনিক ৩৫টি, মাসে ২৪ দিন ও ৩মাস ক্লাশ সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা। এ লক্ষ্যে একটি খসড়া বাজেট প্রণয়ন করা হয়। এ বাজেটে বিভিন্ন খাতে
ব্যয়ের মধ্যে প্রতি ক্লাশের জন্য ৩৫,০০০/- (পঁয়ত্রিশ হাজার) টাকা করে সম্প্রচার ব্যয় হিসেবে ০৩ মাসে ৮,৮২,০০০/- (আট কোটি বিরাশি লক্ষ)
টাকাসহ ১৬,৫০,০০০/- (ষােল কোটি পঞ্চাশ লক্ষ) টাকার ব্যয় ধরা হয়। পরবর্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের সাথে যােগাযােগ
করলে সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন সম্প্রচার ব্যয় ছাড়াই জাতীয় স্বার্থে শ্রেণি কার্যক্রম সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নেয়। এ পরিপ্রক্ষিতে সম্প্রচার ব্যয় বাদ।
দিয়ে বাজেটের আকার দাড়িয়েছে ৭.৬৮.০০০/- (সাত কোটি আটষট্টি লক্ষ) টাকা। কিন্তু সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন”-র কারিগরি সীমাবদ্ধতার
কারণে এখন দৈনিক ০৮টি করে ক্লাশ সম্প্রচার হচ্ছে। আমরা আশা করছি অচিরেই কারিগিরি সমস্যার সমাধান হবে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী।
সম্প্রচার কার্যক্রম চলবে। পুরাে পরিকল্পনার উপর ভিত্তি করেই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য এখনও পর্যন্ত এ বাজেট অনুমােদন হয়নি ফলে অর্থ ছাড় হয়নি। অর্থ ছাড় না হওয়ায় কোনাে ব্যয়ও হয়নি। পুরাে কার্যক্রমটি পরিচালনার জন্যে
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি কাজ করছে। কোনো একজন কর্মকর্তা
পুরাে বিষয়টি দেখছেন তা সত্য নয়। তাছাড়া রেকর্ডিং এর জন্য স্টুডিও নির্বাচন নিয়ে যে অভিযােগ করা হয়েছে তা তথ্য নির্ভর নয়। দৈনিক ৩৫টি,
মাসে ২৪দিন ও ৩মাসের জন্য বিপুল সংখ্যক ক্লাশ সম্প্রচারের লক্ষ্যে রেকর্ডিং কার্যক্রম সময়মত শেষ করতে হলে একাধিক স্টুডিও ব্যবহারের
কোনাে বিকল্প নেই। কিন্তু করোনা ভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কার মধ্যে পর্যাপ্ত সংখ্যক স্টুডিও পাওয়া দুষ্কর। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপােষকতায় মাধ্যমিক
ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ জীবণের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের প্রিয় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া অব্যাহত রাখতে এ সৃজনশীল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
করছে। অথচ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যে অসাধুতার অভিযােগ আনা হয়েছে তা একেবারেই ভিত্তিহীন। যে বাজেটের
অনুমােদনই হয়নি সে বাজেট নিয়ে কর্মকর্তাদের জড়িয়ে কাল্পনিক অসাধুতার অভিযােগ উদ্দেশ্যপ্রণােদিত, অনভিপ্রেত, কল্পনাপ্রসূত ও বিভ্রান্তিকর। এ
বক্তব্যের ফলে বিভিন্নমহলে সৃষ্ট বিভ্রান্তিও দূর হবে।
আমরা মনে করি দেশের এ সংকটকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপােষকতায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এ উদ্যোগটি আমাদের ভবিষ্যৎ
প্রজন্মের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যহত রাখার জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

ধন্যবাদান্তে-

প্রফেসর ড. সৈয়দ মাে. গােলাম ফারুক
মহাপরিচালক
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বাংলাদেশ, ঢাকা।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Facebook Comments